মা দুর্গা, তুমি কেমন আছো? (পর্ব-০২)

মা দুর্গা, তুমি কেমন আছো? (পর্ব-০২)
মা দুর্গা, তুমি কেমন আছো মা? আমি জানি মা তোমার মনটা খুব ভালো নেই। তবু ভদ্রতা বলতে কিছু আছেনা? তুমি শতবার ভালো থাক, তাই বলে কি আমি জিজ্ঞেস করবো না? তুমি তো খুব একটা ভালো নেই কারণ যদিও তুমি তোমার সব সন্তানদের ভালো বাস ঠিকই কিন্তু তোমার যে সবচেয়ে প্রিয় সন্তান সে তোমাকে ছেড়ে চির বিদায় নিয়েছে। এই ক্ষনে ভালো থাকার কথা জিজ্ঞেস করা কি মানায়? কেউ কেউ আবার বলে এক ছেলে চলে গিয়েছে তাই কি, কোটি কোটি ছেলে তো তমার আছে! তাদের স্বার্থেই তোমাকে বাঁচতে হবে, তাদের স্বার্থেই তোমাকে লড়তে হবে।

মা দুর্গা, কারো কারো এই বানী শুনেই তুমি পাষাণে বুক বাঁধলে। তোমার পক্ষ থেকে ঘোষণা আসলো_ অবরোধ, হরতাল চলছে চলবে। চলছে সংগ্রাম চলুক আমার কোন আপত্তি নাই, কিন্তু মা তোমার কাছে আমার বিনয়াবনত প্রশ্ন, অবরোধ, হরতালে যারা কাজ করতে না পেরে উপবাসে দিন কাটাচ্ছে তাদের জন্যে তুমি কি করলে? একজন প্রবাসী যখন দেশে আসে তার প্রিয়জনের সাথে দেখা করতে সে কিভাবে বাড়ি ফিরবে তার তো কোন পথ বাতলে দিলে না মা? বরঞ্চ প্রবাসিরা যখন ছুটি শেষে বিদেশ (কর্মস্থলে) আসার জন্য রওনা দেয়, তোমার একনিষ্ঠ ভক্তরা তাঁকে বহনকারী গাড়ীটি পুড়িয়ে দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে সেও ঝলসে যায়।

মা দুর্গা, আমার মনটা আজকে বেশী খারাপ, কারণ যেখানে তোমার ছেলে চলে গিয়েছে সেখানে তোমাকে শান্তনা দেবার ভাষা আমার নাই। আমি এটাও কামনা করি পৃথিবীর কোন মাকেও যেন এমন কঠিন সংবাদটি শুনতে না হয়। আর যাই হোক না কেন, যেহেতু সে চলে গিয়েছে তাই তাঁকে নিয়ে আমরা যত কম কথা বলতে পারি ততই ভালো। একই সাথে আমি উনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

মা দুর্গা, আমি মনেপ্রানে বিশ্বাস করি যিনি চলে গিয়েছেন তাঁকে নিয়ে গীবত না গাওয়াই ভালো, কিন্তু এখন দেখছি গীবত তো নয় কেউ কেউ চরম মিথ্যা বিবৃতি দেয়া শুরু করছে। কারো গীবত গাওয়ার উদ্দেশ্যে আমার এ অভিযোগ নয়, যিনারা চরম মিথ্যা বিবৃতি দিচ্ছেন তাদের প্রতি আমার এ অভিযোগ। আজকের প্রথম আলো পত্রিকায় (০২/০২/১৫) দেখালাম তোমার এক পেয়ারে ভক্ত লিখেছেন। তোমার চিরবিদায় নেয়া ছেলের পাচার করা টাকা নিয়ে যত মামলা-মোকাদ্দমা সবি নাকি মিথ্যা।

তুমিই বল মা, এমন মিথ্যা বিবৃতি দিলে গোস্বা লাগে না? তুমি দেখেছ মা তোমার ঐ পেয়ারে ভক্ত মাহবুব উদ্দিন খোকন কি বলেছেন? তিনি যা বলেছেন তার কয়েকটি পয়েন্ট আমি উল্লেখ করলাম:

আমি কোকোর আইনজীবী হিসেবে নিম্নলিখিত কারণে দৃঢ়ভাবে বলছি যে হাসান ফেরদৌসের লিখিত বক্তব্য অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। 

১. প্রথমত, আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালতে কখনোই কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বা জার্মানির সিমেন্স এজিও কোকোর সম্পর্কে মার্কিন আদালতে কোনো বক্তব্য পেশ করেনি, বা সিঙ্গাপুরে কোকোর কখনোই কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। সুতরাং জার্মানির সিমেন্স এজি কর্তৃক আমেরিকা থেকে সিঙ্গাপুরে কোকোর কথিত অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। 
২. হাসান ফেরদৌসের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন আদালতে ২০০৯ সালে সিমেন্সের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অথচ মার্কিন বিচার বিভাগের উপরোল্লিখিত ওয়েবসাইটে ২০০৮ সালে সিমেন্সের বিরুদ্ধে রায়ের কথা বলা হয়েছে। তাহলে মামলা আগে হয়েছে, না 

রায় হয়েছে? এ ব্যাপারে হাসান ফেরদৌস সাহেবের বক্তব্য হাস্যকর। উল্লেখ্য, ওই ওয়েবসাইটের রায়ে কোকোর বিরুদ্ধে একটি শব্দও উল্লেখ নেই।

৩. হাসান ফেরদৌস লিখেছেন যে বাংলাদেশে কোকোর বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হয়েছে এবং সে মামলায় কোকোর সাজা হয়েছে। তাঁর এ বক্তব্য অসত্য। কারণ, ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অসুস্থ অবস্থায় ২০০৮ সালে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যান। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অসুস্থ আরাফাত রহমান কোকোর প্যারোল বাতিল করে এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল চিরাচরিত নিয়ম ভঙ্গ করে নিম্ন আদালতে গিয়ে কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৭ মার্চ ২০০৯ তারিখে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে সাজা প্রদান করা হয়।
কোকোর আইনজীবী হিসেবে সবার অবগতির জন্য আমার বক্তব্য পেশ করছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর এই অকালমৃত্যুতে দেশবাসী গভীরভাবে শোকাহত।

মা দুর্গা, তোমার জ্ঞাতার্থে আমি কিছু ওয়েব এড্রেসের লিঙ্ক দিলাম সময় করে দেখে নিও:

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ঘাটলে, সহজেই আরো অনেক ইনফরমেশন পাওয়া যাবে

ওহ তুমি তো আবার আধুনিক শিক্ষা পছন্দ করোনা, কারণ আমি আগেও বলেছি মানুষ যত বড় বড় শিক্ষিতি হচ্ছে তত তোমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর ঐ এড্রেসের লিঙ্ক তো আবার ইংলশে। যাই হোক আমি ওসব লিঙ্ক থেকে এক্কেবারে সংক্ষিপ্ত করে বলছি।
  • এই খবরতো সিঙ্গাপুরের পত্রিকাও ছেপেছে। সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে যদি টাকা নাই রাখবে বা থাকবে, এই দেশের (সিঙ্গাপুরের) পত্রিকার কি দরকার পড়েছে যে, এই সংবাদ প্রকাশ করবে।
  • এফবিআই এর ওয়েবসাইটেও তো আরাফাত রহমান কোকোর নাম মেনসন করা আছে। চাইলেই যে কেউ চাইলেই এফবিআই এর ওয়েবসাইটে লগইন করে দেখতে পারেন।
  • সিঙ্গাপুরের ব্যাংক যে টাকা ফেরত দিয়েছে এটাও কি মিথ্যে।

একজন আইনজীবী তার মক্কেলের পক্ষ নিবে এটাই চির সত্য, কিন্তু তাই বলেকি এমন ডাহা মিথ্যা কথা বলবে? চিনি চিরতরে চলে গিয়েছেন তাঁকে নিয়ে কেন এমন মিথ্যে রটনা। বরঞ্চ এমন কথা বলে টাকা পাচারের ঘটনা সারা বিশ্বকে আবার মনে করিয়ে দেয়া কি চূড়ান্ত বোকামি নয়? বল মা দুর্গা তুমিই বল, এমন বোকামি করে কি আমরা কোন উন্নতি করতে পারবো? বরঞ্চ এমন সচেতন যুগে আমরা আরও পিছিয়ে পরবো।

ররাবরের মতো, আবারো বলছি, মা দুর্গা, তোমাকে আমি মা দুর্গা বলে ডাকলাম। আমার ডাক শুনে তুমি খুশি হবে না বেজার হবে জানি না। তবে তুমি যদি বেজার হও তাহলে আমি দায়ী না (বরং একজন মুসলিম হিসেবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী) কারণ তোমাকে মা দুর্গার আসনে বসিয়েছেন তোমারি যোগ্য অনুসারি জনাব গয়েশ্বর চন্দ্র। তুমিই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারো তোমাকে মা দুর্গার আসনে বসানো ঠিক হয়েছে কিনা?

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Sahidul77gmail.com 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

সহিদুলের লেখা